শিখতে শেখা - নিউরাল সায়েন্স আর কোর্সেরার আলোকে

Written on August 24, 2020

ভূমিকা

কোর্সেরায় একটা মজার কোর্স আছে, Learning How to Learn: Powerful mental tools to help you master tough subjects। কোর্সটা পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় অনলাইন কোর্সগুলোর একটা, যেটায় প্রায় ১১ লাখ মানুষ এখন পর্যন্ত এনরোল/ভর্তি হয়েছে। কোর্সটা যারা নেন তাঁরাও অনেক জ্ঞানী। প্রথম জন অধ্যাপক Barbara Oakley, যিনি প্রকৌশল, শিক্ষা সহ আরো নানা কিছু নিয়ে গবেষণা করেন। আরেকজন অধ্যাপক Terry Sejnowski, যিনি মগজের ভিতরে কি হয় তা নিয়ে গবেষণা করেন। দুইজনেরই নিজ নিজ বিষয়ে যথেষ্ট গবেষণা আর অর্জন আছে।

তাদের সেই কোর্সে তাঁরা শেখান মানুষ কিভাবে শিখে, শেখার সময় কিভাবে আমাদের মগজে নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, শেখার পদ্ধতিগুলো কী, শেখার সময় কী ধরণের প্রভাব থাকে আমাদের পারিপাশ্বিকতার, ঘুমের, বা অভ্যাসের। এর মাঝে অনেক গুলো আমরা ছোট বেলা থেকে হয়তো শিখেও এসেছি, যেমন কম ঘুম হলে আমাদের কিছু মনে করতে বা শিখতে কষ্ট হয় এটা আমরা এমনি এমনিই জানি!

তবে কী হয় আর কেন হয় এর মাঝে বিস্তর ফারাক। এই কোর্স করে খালি এটা শিখছি না যে কিভাবে শিখতে হয়, বা কী করলে ভালো শেখা যায়, তার সাথে কেন টাও!

সেই শেখার ভিত্তিতেই এই লেখাটা।

আলসেমি / Procrastination

যখন আমাদের কিছু করার দরকার, যেটা করতে ভালো লাগে না, তখন আমরা নানা রকম হাবিজাবি কাজে নিজেদের ব্যস্ত করার চেষ্টা করি। যেমন আমি ছোটবেলায় পরীক্ষা আসলেই পড়াশুনা বাদ দিয়ে সাবান পানি দিয়ে বুদবুদ তৈরি করা যায় কিভাবে, পাউডার মিশালে কি হয়, তেল মিশালে কি হয়, শ্যাম্পু মিশালে কি হয় সেগুলো নিয়ে গবেষণা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। পরীক্ষা শেষ হলে সাবান পানি তার যায়গায় পড়ে থাকতো।

কারণটা কী?

যখন আমরা এমন কিছু করার চেষ্টা করি যেটা আমাদের একদমই ভালো লাগে না, তখন আমাদের মগজের ব্যথা পাওয়ার অংশগুলো কার্যকর হয়।

অন্যভাবে বললে, অপছন্দের কাজগুলো করতে চাইলে যন্ত্রনা লাগে!

মজার বিষয় হচ্ছে, সেই অপছন্দের কাজ জোর করে শুরু করলে কিছুক্ষনের মাঝেই সেই যন্ত্রনার অনুভূতিটা চলে যায়। সেজন্য আলসেমি বা procrastination কাটানোর খুব ভালো একটা উপায় হচ্ছে Pomodoro Technique

বিমূর্ত শিক্ষা আর অনুশীলন

বিমূর্ত শিক্ষা আবার কী? তেমন কিছু না আসলে, আমরা যেসব জিনিষ শিখি কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় না বা অস্তিত্ব নেই সেগুলোই বিমূর্ত শিক্ষা। যেমন অংক করা। এগুলোর সমাধান যখন আমরা করি, তখন সেগুলো আমরা চিন্তা করি বা লিখি বটে, কিন্তু বাস্তবে দেখি না চোখে। কিন্তু এগুলো (বিমূর্ত বা মূর্ত শিক্ষা যাই হোক) যখন করি, তখন আমাদের মগজে প্যাটার্ন তৈরি হয় যেগুলো দিয়ে এধরণের কাজ আরো সহজে করতে পারি আমরা। সমস্যা হলো, এই প্যাটার্নগুলো হারিয়ে যায় যদি ঠিক মতো অনুশীলন না করা হয়। সুতরাং, তাঁদের ভাষায় - Practice Makes Permanent, বা

অনুশীলনেই শেখার স্থায়িত্ব!

শেখায় বিরতির গুরুত্ব

এই শেখা নিয়ে শিক্ষায় যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছি প্রথম হপ্তায় তা হলো বিরতির গুরুত্ব। ওদের ভাষায়, আমাদের মগজের দুটো মোড আছে, Diffuse Mode (বিরতি দিয়ে অন্য কিছু করা) আর Focused Mode (এক মনে শেখা). ওদের উদাহরণ দিয়েই বলি, ব্যাপারটা অনেকটা দেয়াল তৈরি করার মতো। এক মনে শেখাটা অনেকটা স্তরে স্তরে দেয়াল তৈরি করার জন্য ইট আর সিমেন্ট ব্যবহার করা। কিন্তু খালি একটার পর একটা স্তর তৈরি করলেই হয় না, তার সাথে সিমেন্ট শুকানোর সময় ও দেয়া লাগে। তা নাহলে দেয়াল তৈরি হবার আগেই সেটা নিজের ভারে নিজেই পিছলে যাবে!

সুতরাং,

এক মনে কিছু নিয়ে পড়াশুনার পর, একটু হাবিজাবি করার বিরতি প্রয়োজনীয়!

এই গেল প্রথম সপ্তাহে যা যা শেখার আছে, তার অর্ধেকের সারসংক্ষেপ।

আমার মতে এই লেখা পড়ে আপনার যদি মনে হয় আরো বুঝার দরকার, জানার দরকার, কোর্সটায় যোগদান করুন। ফ্রিতে ই পারবেন, খালি একাউন্ট তৈরি করা লাগবে। আর কোর্সে যোগদান করতে চাইলে দুটো অপশন দেখাবে, সার্টিফিকেট নিতে চাইলে টাকা লাগবে, আর না চাইলে টাকা ছাড়া যোগদান। আপনার যেটা দরকার সেটা করবেন। 😁