গপ্পো - প্রাণী

প্রাণী বিজ্ঞান ক্লাসের অমিম হাত উঁচিয়ে তুললো: স্যার! প্রাণ থাকলেই কি প্রাণী বলে?

প্রিষম স্যার স্মিত হাসলেন, তারপরে বলা শুরু করলেন ধীরে ধীরে, তাঁর স্বভাব সুলভ গমগমে গলায়: খুবই ভালো প্রশ্ন করেছো। প্রাণ থাকলেই যদি প্রাণী হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা কি একটা প্রাণী হিসাবে নিজেদের বলতে পারি? আমাদের শরীরের প্রতিটা কোষের আলাদা জীবন আছে, এন্টিবডি আছে, আবার হজম প্রক্রিয়ায় অণুজীব আছে - তারা প্রত্যেকেই বাঁচে, মরে - আমরা বেঁচে থাকা অবস্থাতেই। তাহলে আমরা কি প্রাণী? নাকি আমরা প্রাণী সমষ্টি? কি মনে হয় তোমাদের?

ক্লাসের একটু ফাঁকিবাজ কানতু শুঁড় উচিয়ে বললো, স্যার আমরা মনে হয় দুইটাই। আমরাও প্রাণী, আমাদের কোষগুলোও প্রাণী। সবগুলাই প্রাণী।

প্রিষম স্যার হাসলেন, তারপরে বললেন - তোমার কথাটা ঠিক। সবগুলোই প্রাণী, আর প্রাণ থাকলেই আমরা প্রাণী বলছি। তবে আমাদের সাথে এই কোষগুলোর একটা ছোট্ট পার্থক্য আছে - সেটা হচ্ছে চিন্তা করার সক্ষমতা।

Read More →

আত্মহত্যা: কিভাবে ঠেকানো যায়, আর আমাদের ভূমিকা

আত্মহত্যা থামানোর জন্য কি করা যায়, শিক্ষক, ছাত্র (পড়ুন বন্ধু) এবং কর্মচারী হিসেবে - এই বিষয়ে ১লা জুলাই একটা ওয়ার্কশপ হলো William & Mary তে। আমেরিকায় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ আত্মহত্যা। প্রতি বছর প্রায় ৪৫,০০০ শিক্ষার্থী মারা যায় আত্মহত্যা করে! বাংলাদেশেও প্রায় ৬৫লাখ মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে আছেপ্রতিদিন প্রায় ২৯জন মারা যাচ্ছে বাংলাদশে আত্মহত্যা করে। উইলিয়াম মেরি তো আরেক কাঠি বাড়া - পরিচিতই ছিলো Suicide School হিসেবে!

বর্তমানে অবশ্য ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হয়েছে - উইলিয়াম মেরি এখন আমেরিকায় আন্ডারগ্রেড লেভেলে অনেক কেয়ারিং স্কুল হিসাবে র‍্যাংকিং এ আসে নিয়মিতই। তার উপরে উইলিয়াম মেরির শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে সুখী শিক্ষার্থী আমেরিকায় - এমন র‍্যাংকিং তো আছেই ! অনেকগুলো পদক্ষেপের মাঝে ওরা যেটা করে সেটা হলো নিয়মিত আত্মহত্যা ঠেকানো (সুইসাইড প্রিভেনশন) বিষয়ে ওয়ার্কশপ করে। ওয়ার্কশপ নেন সাইকোলোজিস্টরা, আর শিক্ষকতা লাইনে যারা আছেন তারা মিলে। আমার এটায় এটেন্ড করার জন্য আরো বেশি আগ্রহ ছিলো কারণ আমি ব্যক্তিগত ভাবে অন্ততঃ তিনজনকে চিনি যারা কোন না কোন সময় আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। আরো বেশি চেয়েছি কারণ বাংলাদেশে প্রায়ই শুনি মানুষ আত্মহত্যা করেছে - কোন না কোন কারণে। আত্মহত্যা হবার পরে অনেক আহা উহু ইত্যাদি জানতে পারলেও আত্মহত্যার অশনিসংকেত কি, কি দেখে বুঝা যেতে পারে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে, এবং কিভাবে তাকে সাহায্য করা যায় - এ বিষয়ে জানার আগ্রহ থেকেই যাওয়া।

Read More →

টাইমস এর র‍্যাংকিংয়ে নেই একটিও বিশ্ববিদ্যালয় - আসলেই?

টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাংকিং নিয়ে বেশ কিছু আলাপ আলোচনা দেখছি গত কয়দিন ধরেই। অনেকে হাহাকার করছেন, অনেকে হাসাহাসি করছেন কেন এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা আর কারো নাম নাই, অনেকে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে ফেলছেন।

একই ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের র‍্যাংকিং এ পুরো বাংলাদেশ থেকে কেবল মাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো এশিয়ান র‍্যাংকিং এ, তাও প্রথম ৩০১-৩৫০ ক্যাটাগরিতে, এক বছরে এত খারাপ করলো যে ২০১৯ সাল এর র‍্যাংকিং এ বেমালুম বিলুপ্ত হয়ে গেল? একদম নাই?

আমি ভাবলাম ব্যাপারটা একটু ঘেঁটে দেখি।

Read More →

শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রস্তাবসমুহ এবং আমার মতামত

শিক্ষক নেটওয়ার্কের উদ্যোগে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরিবর্তন নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব এসেছে, অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। সেটাকে আরো ভালো করার জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলো নিয়ে মতামত আছে, শুধুমাত্র সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো।

Read More →

আমেরিকায় পড়াশুনা (২) - কোন ভার্সিটিতে পড়বো?

আগেই বলে রাখি, এই লেখাটা যারা শুধুই আমেরিকায় আসতে চান, সেজন্য পড়াশুনার অজুহাতে বা যেকোন অজুহাতে আসবেন তাদের জন্য না। যারা পড়াশুনা নিয়ে আগ্রহী, গবেষণা করতে চান, বা ভালো ক্যারিয়ার গড়তে চান উচ্চ পর্যায়ের পড়াশুনা শেষে, তাদের জন্য। আমি আরো ধরে নিচ্ছি আপনার সিজিপিএ, জিআরই, টোফেল বা আয়েল্টস, পাবলিকেশন এগুলোতে মোটামুটি স্কোর আছে।

আমেরিকায় সাধারণত মানুষ ১০-১২টায় এপ্লাই করে, কেউবা করে ৩০টা ইউনিভার্সিটিতে। গড়পড়তা নিয়ম হচ্ছে এপ্লাই করার আগে তিন ক্যাটেগরিতে ভাগ করা:

  • যেখানে পড়াশুনা করতে পারলে ভাগ্যবান হবে নিজেকে,
  • যেটায় পড়াশুনা করতে পারলে ভালো, আর
  • যেটায় পড়াশুনা করতে পারলে ইউনিভার্সিটি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করবে।

সাধারণত টপ স্কুলগুলোকে প্রথম ক্যাটেগরির ধরা হয়।

Read More →